,

ঝিনাইদহের বিজিবির গুলিতে হতাহতদের পরিবারের কান্না থামছে না

জাহিদুর রহমান তারিক, ষ্টাফ রিপোর্টার,ঝিনাইদহ # ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তের মাটিলা গ্রামের মানুষের কান্না থামছে না। নীরিহ মানুষের উপর গুলি চালানোয় গ্রামবাসিরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শত শত নারী-পুরুষ ঝাটা হাতে বিক্ষোভ করেছে। তারা ঘটনার সাথে জড়িত বিজিবি সদস্যদের বিচার ও শাস্তির করেছেন। ঘটনাস্থলে রক্তের দাগ এখনো মুছে যায়নি। এদিকে বিজিবির গুলিতে হতাহতদের পরিবারে কান্না থামছে না। পরিবারগুলোতে চলছে শোকের মাতম। নিহত রফিকুলের স্ত্রী রোজিনা খাতুন তার তিন মাস বয়সী শিশু কন্যা আফরোজাকে নিয়ে প্রলাপ করছেন।

 

১৫ বছর পর রফিকুল ও রোজিনার ঘর জুড়ে আসে এই শিশু কন্যাটি। শিশু কন্যাটিকে ঘিরে রোজিনা রফিকুল দম্পতির কত আনন্দ ছিল। কিন্তু বিজিবির গুলিতে সে স্বপ্ন তাদের চুরমার হয়ে গেছে। এদিকে বিজিবি যশোর ২৬ ব্যাটেলিয়ানের পরিচালক ল্যা: কর্ণেল মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন ঘটনার সাথে জড়িত বিজিবি সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর এলাকার যারা এ ঘটনা উস্কে দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। নিহত রফিকুলের বাবা অভিযোগ করেছেন, সিওর নির্দেশেই গুলি চালানো হয়েছে। ছেলে গরু ব্যবসায়ী নয় দাবী করে তিনি জানান, সে আমার চায়ের দোকানে সর্বক্ষন সহায়তা করতো। তিনি বলেন বিজিবি ঘুষ খায়, অথচ তাদের শাসন করা হয়না। জুলুলী বিজিবি ক্যাম্পের টহল পার্টিরা দুস্কৃতিকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করে ভাল মানুষকে হয়রানী করতো বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

 

এলাকার ইউপি মেম্বর মাটিলা গ্রামের মহিউদ্দীন মহি জানান, নিহত রফিকুল বা আহতরা কেও গরু ব্যবসার সাথে জড়িত নয়। বিজিবি আসল ঘটনা ধামা চাপা দিতে বিষয়টি নিয়ে মিথ্যাচারে লিপ্ত। তিনি বলেন রোববার সকালে এলাকার কয়েকশ নারী পুরুষ ঝাটা মিছিল করে দায়ী বিজিবি সদস্যদের বিচার দাবী করেছেন। তিনি জানান, বিজিবির পক্ষ থেকে বসার জন্য বলা হয়েছে। সন্ধ্যার পর লাশ দাফন হয়ে গেলে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ বসার সম্ভবনা রয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি জানান, এই নির্মম ও নজীরবিহীন হত্যাকান্ড কোন ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কারণ নিহত রফিকুেলর গরু ব্যবসার সাথে নুন্যতম সংশ্রব নেই। ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার ওসি সাইদুল ইসলাম শাহিন জানান, রফিকুলের লাশ রোববার বিকালে পুলিশ হেফাজতে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ময়না তদন্ত করা হয়।

 

আহত অপর ৪ জনের মধ্যে ফিরোজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার সকালে তার দেহে অস্ত্রপরচার করা হয়েছে বলে তার ছোট ভাই সবুজ জানিয়েছেন। ফিরোজের অবস্থাও গুরুতর। তাকে যশোর হাসপাতাল থেকে রোববার ভোরে ঢাকা নেয়া হয়। বিজিবির গুলিতে সে আহত হয়। খবর পেয়ে রাতেই ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নবী নেওয়াজ, মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আশরাফুর রহমানসহ পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। শনিবার রাত ১টার দিকে বিজিবি সদস্যরা নিহত রফিকুলের লাশ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এঘটনার পরে জুলুলী ক্যাম্পে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। সরিয়ে নেয়া হয়েছে জড়িত বিজিবি সদস্যদের। বিজিবি যশোর ২৬ ব্যাটেলিয়ানের পরিচালক লে: কর্ণেল মো: জাহাঙ্গীর হোসেন বলেছেন হতাহতরা চোরাকারবারী ও গরু ব্যবসার সাথে জড়িত বলে দাবী করে জানান, দলবদ্ধ হয়ে বিজিবির উপর হামলার পরই বিজিবি সতর্ক মুলক ফাঁকা গুলি চালায়।

 

এরপরও তারা ইটপাটকেল ও দেশী অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে ছুটে আসতে থাকেল নিচে গুলি ছোড়ে। এতে এক জন নিহত ও লোকমুখে শুনেছি কয়েকজন আহত হয়েছে। উল্লেখ্য শনিবার সন্ধ্যার দিকে মাটিলা গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে রফিকুল ইসলাম বিজিবির গুলিতে নিহত হন। এ সময় একই গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে ফিরোজ (২৮), মথে মালিথার ছেলে রবিউল ইসলাম ও আজিবর রহমানের ছেলে বাবলু মিয়া (২৩) ও আতকুল নামে ৪ গ্রামবাসি গুলিবিদ্ধ হন।
 

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com