,

টাঙ্গাইল কবিতা উৎসব ও কিছু কথা ।। অসীম সাহা

কিছুদিন আগে টাঙ্গাইলের একটি কবিতা উৎসবে গিয়েছিলাম। বিশাল আয়োজন। কবি মাহমুদ কামালের অসামান্য সাংগঠনিক দক্ষতায় দুদিনব্যাপী এই উৎসবে দুশোরও বেশি কবি অংশগ্রহণ করেছিলেন। বাংলাদেশের এমন প্রান্ত নেই, যেখান থেকে কবিরা আসেননি। পশ্চিমবঙ্গ থেকেও এসেছিলেন ২৮জন ‘কবি’। এদের মধ্যে কবি সাকুল্যে ৬/৭ জন হবে, বাকিরা ‘বয়াতি কবি’ মানে অকবি!!! তাদের নেতৃত্ব দিয়ে নিয়ে এসেছিলেন মেদিনীপুরের একজন কবি শ্যামলকান্তি দাশ। তিনি প্রতি বছরই আসেন। কারণ তিনি পশ্চিমবঙ্গের কবিতার জগতের ইজারা নিয়েছেন। এর আগেও একবার কবি ফরিদ আহমদ দুলাল ময়মনসিংহে এরকম একটি উৎসবের আয়োজন করেছিলেন। সেখানেও আগত ৩৪ জন কবির মধ্যে ২৪/২৫ জনই ছিলো অকবি। অকবিদের আনার সুবিধা এই যে, তাতে অকবিদের কাছে নিজের বাহাদুরী বাড়ে আর পকেটও ভারি হয়। কারণ কিছু তথাকথিত কাঙাল ‘কবি’ আছেন, যারা নিজের ট্যাকের টাকা খরচ করে কবিত্ব জাহির করার জন্য শ্যামলকান্তি দাশদের মতো কবিতার দালালদের’ খপ্পরে পড়ে। আত্মমর্যাদাবোধসম্পন্ন কোনো কবি এমন করে কোনো উৎসবে আসতে পারেন? কিন্তু শ্যামলের ভেল্কিবাজি এতোটাই সম্মোহনকারী যে, তাতে অনেককেই অচেতন করে ফেলা সম্ভব। উৎসবের প্রথম দিন রাতে পশ্চিমবঙ্গের ‘কবিদের’ কবিতা পাঠের আসর ছিলো। পুরো ভাসানীহল বাংলাদেশের কবি ও দর্শকদের দিয়ে কানায় কানায় পূর্ণ ছিলো। রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত পিনপতন নিস্তব্ধতায় তাদের কবিতা আমরা শুনেছি।কিন্তু পরের দিন সকালবেলায় যখন বাংলাদেশের কবিদের কবিতাপাঠপর্ব ছিলো, তখন হলে পশ্চিমবঙ্গের একজন কবিও উপস্থিত ছিলেন না। আমি ছিলাম প্রধান অতিথি। এটা আমি মেনে নিতে পারিনি। আমরা রাত জেগে পশ্চিমবঙ্গের তথাকথিত কবিদের কবিতা শুনবো, আর আমাদের কবিতাপাঠের সময় তারা অনুপস্থিত থাকবেন, এটা কি গ্রহণযোগ্য হতে পারে?

 

আমি এ নিয়ে সমালোচনা করায় কবি শ্যামলকান্তি দাশ নাকি খুব গোস্বা করেছেন! ঢাকায় এসে তিনি সেই গোস্বা উগড়ে দিয়েছেন বাংলাদেশের কিছু কিছু কবির কাছে! তিনি নাকি বলেছেন, এতো অপমান সয়ে তিনি আর বাংলাদেশে আসবেন না! শুনে খুব প্রীত হলাম! কারণ বাংলাদেশের মাটিকে কোনো লাল্লুগুল্লুরা এসে অপবিত্র করুক, এটা আমরা চাইতে পারি না। তাই তিনি যদি না আসেন, তা হলে আমাদের বীরপ্রসবিণী টাঙ্গাইলের মাটি অভিশাপমুক্ত হবে। সেটা আমাদের জন্য আনন্দের কথা। তিনি প্রতিবার রাস্তা থেকে বেশকিছু অকবি নিয়ে এসে বাংলাদেশের কবিদের অবজ্ঞা করবেন, এতো সাহস তিনি পান কোত্থেকে?

এবার একটু আমাদের দেশের কবিদের কথা বলি। আসলে এরা কবি নয়, কবি নামক কীটপতঙ্গ, যারা ‘মাল’ খাবার জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যান না, ‘গমন’ করেন। এদের নাম আমি দিয়েছি ‘বোতল কবি’। রাতে মাল খেয়ে সকালে ঠিক সময়ে উঠতে না পেরে তারাও সময়মতো অনুষ্ঠানে হাজির হননি! দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য এরা যা করার, তাই করেছেন।

আমি অামার দেখা সজ্জন মানুষদের মধ্যে অন্যতম কবি মাহমুদ কামালকে অনুরোধ করবো, তিনি যেন এইসব ‘অকবিদের’ আমন্ত্রণ জানিয়ে এতো বড়ো একটি মহৎ অনুষ্ঠানের মহিমাকে মলিন না করেন! তিনি পশ্চিমবঙ্গের যারা প্রকৃত কবি, তাদের ডাকুন, আমি তাদের প্রণাম করবো। কিন্তু ভবিষ্যতেও আমি যদি দেখি, এইসব অকবিদের ডাকা হয়েছে, আমি যদি মঞ্চে থাকি, তা হলে আমার বিবেক অবশ্যই কথা বলে উঠবে। কারণ আমি আমার বিবেক ও সত্যের কাছে দায়বদ্ধ, কা্রো ভয়ভীতি, গোস্বা বা অভিমানের কাছে নয়!!

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com