,

‘পৌর নির্বাচনে আ. লীগ হারলেই জাতীয় নির্বাচনের চাপ সৃষ্টি হবে’ : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

পৌরসভা নির্বাচনে হারলেই জাতীয় নির্বাচনের জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ সারা দেশে সন্ত্রাস শুরু করেছে। পৌরসভা নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে অতি অল্প সময়ের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দিতে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। তাই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে গণতান্ত্রিক উপায়ে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন করতে হবে।

 

আজ (শনিবার) সকালে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী রাজিউর রহমানের নির্বাচনি প্রচারণা ও পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে, রানীশংকৈল পৌরসভা নির্বাচনে ২০ দল মনোনীত জামায়াতের প্রার্থী মোকারম হোসেনের প্রচারণা ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। এদিকে, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দেয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।

 

আজ (শনিবার) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। রুহুল কবির রিজভী বলেন, জোর করে, শক্তি প্রয়োগ করে ক্ষমতা ধরে রাখা যায়, কিন্তু মানুষের বিচার-বুদ্ধিকে বেধে রাখা যায় না। মানুষ সবকিছুই দেখতে পাচ্ছেন, উপলব্ধি করছেন। আমি দলের পক্ষ থেকে দেশবাসীকে আহ্বান জানাতে চাই, আসন্ন পৌর নির্বাচনে বজ্জাত, খুনি, বদমায়েশ, দাম্ভিক, ক্ষমতাদর্পী ও দাগী অপরাধীদের অপতৎপরতা অগ্রাহ্য করে নির্বাচনের দিন ভোট প্রদান করতে হবে। ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে।

 

সরকারি দুঃশাসনে সৃষ্ট সকল চড়াই-উতরাই অতিক্রম করে আগামী ৩০ ডিসেম্বরের পৌর নির্বাচনকে সাফল্যমণ্ডিত করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০১৪ সালের ৫জানুয়ারি একতরফা নির্বাচনের পর তাদের নিষ্ঠুর আচরণ এতবেশি তীব্রতর হয়ে উঠেছে যে, মনে হয় তারা গণতন্ত্রের ছাইভস্মও অবশিষ্ট রাখবেন না। সরকারপ্রধান ও তার সহকর্মীদের অহঙ্কার, ঔদ্ধত্য, দুর্নীতি ও মানুষকে ক্ষমতার দম্ভে হেয় করার প্রবণতা অতীতের সকল মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে।

 

নির্বাচন কমিশন একটি নিষ্ক্রিয় ডাকঘরে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আচরণবিধি লঙ্ঘনসহ অসংখ্য অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নির্বিকার ও নিশ্চুপ থাকে। এই নতজানু ভূমিকার জন্য ছি ছি করছে মানুষ। তিনি আরও বলেন, পৌর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী বিরোধীদলীয় নেতাকর্মী যারা আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তাদের আশু সুস্থতা কামনা করছি। গ্রেফতারকৃত নেতাকর্মীদের অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করছি।

 

অপরদিকে, চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর নাছিরের গাড়িবহরে হামলা-গুলি ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। আজ দুপুর সোয়া ১টার দিকে গুছরা বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে। রাঙ্গুনিয়া গোছরা বাজারে বিএনপির দলীয় প্রার্থীকে নিয়ে প্রচারণা শুরু করেন মীর নাছির। বাজারে প্রচারণা শেষ করে সামনের দিকে যাওয়ার সময় পেছন থেকে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল গাড়িবহরে গুলি ও হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে বিএনপির নেতাকর্মীরা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com