,

উচ্চশিক্ষা দিয়ে কি করব আমরা??? ।। খন্দকার মোঃ মাহমুদুল হাসান

যোগ্যতা ও শিক্ষা (নৈতিকতা, মানবতা……) মুলত এই দুই কারণে বা দরকারে আমাদের উচ্চশিক্ষা দরকার। কিন্তু কথা হল, ফিজিক্স, ম্যাথ, দর্শন …… এমনকি সিএসই, ইইই এর মাস্টার্স দিয়ে আমরা বা আমাদের দেশ বা আমাদের কোম্পানিগুলো কি করে বা করবে। থিওরি অব নিউক্লিয়ার স্ট্রাকচার পড়ে ব্যাংক অফিসার, পুলিশ অফিসার হয়। কেউ যদি ভাবে যে সে ফিজিক্স পড়বে কিন্তু পুলিশ অফিসার হবে, সে হতেই পারে। কিন্তু দরকারের প্রশ্নে এটা অহেতুক।

একটা বন্ধু মাস্টার্স পাস আর একজন HSC পাস। সমান্তরাল চিত্র কি? –
HSC পাস বন্ধু ২০, ২১ বছরে বিয়ে করে, আর মাস্টার্স পাস বন্ধু ২০, ২১ বছর বয়সে হস্তমৈথুন করে।
মাস্টার্স পাস বন্ধু যখন চাকুরি খোঁজে, তখন HSC পাস বন্ধু জমি, গাড়ি ইত্যাদি খোঁজে।
মাস্টার্স পাস বন্ধু যখন পাত্রী খোঁজে, তখন HSC পাস বন্ধু নিজের মেয়ের বিয়ের কথা ভাবা শুরু করে।

মাস্টার্স পাস করার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেমেয়েরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পরে যায়। চাকুরি পাব তো, কবে পাব। চাকুরি না পেলে গ্রামে মুখ দেখাব কি করে? চাকুরি পেতে পেতে বয়স প্রায় ৩০ বছর হয়ে যায়। এরপর বিয়ে। আবার ভয়। পারব তো??? যৌবনটা তো বাথরুমে কেটেছে। বিয়ের পর ১ বছর ভাল সেক্স করে, পরের ১ বছর মোটামুটি, তারপর ৩ বছর কালেভদ্রে। ৩৫+ হয়ে গেলে আমাদের স্বামী-স্ত্রী বাকিটা জীবন ভাইবোনের মত কাটিয়ে দেয়। মেয়েদের যৌবনের অবস্থা তো আরো শোচনীয়। ফার্স্ট ইয়ার, সেকেন্ড ইয়ারে ছেলেরা আড়ি চোখে তাকাত, এরপর আর কেউ পাত্তা দেয় না। ২৭-৩০ এ বিয়ে হয়। চাকুরি কর, সন্তান পালন… বিয়ে করা স্বামী রাতে কিছু বললে, তারে চরিত্রহীন মনে হয়।

আমরা কেন বার বার উচ্চশিক্ষার কথা বলছি। আমার দরকার সুইস অন অফ করা, আমি কেন ইইই ইঞ্জিনিয়ার চাচ্ছি, আমার দরকার ওয়ার্ড প্রসেসিং, আমি কেন সিএসইতে মাস্টার্স চাচ্ছি, আমার দরকার চায়ের স্টলের বয়, আমি চাচ্ছি এমবিয়ে। আমরা বার বার জনশক্তির কথা বলি, কিন্তু শক্তি ক্ষয় হয়ে যাওয়া জন দিয়ে কোন লাভ হবে না। শুধুমাত্র রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়য়ের ফিজিক্স ডিপার্টমেন্টেই ৯০ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়। এই ৯০ জনের সেবা নেওয়ার মত জায়গা বাংলাদেশে নেই, বাকি বিশ্ববিদ্যালয়, বাকি সাবজেক্টগুলর কথা নাই বললাম। চাকুরির জন্যই তো উচ্চশিক্ষা, একটা সুন্দরী বউএর জন্যই তো উচ্চশিক্ষা, তাহলে চাকুরির সঙ্গে ম্যাচ করে এমন শিক্ষা চাই, যৌবনের সঙ্গে ম্যাচ করে এমন বয়সে বিয়ে চাই। উচ্চশিক্ষিত হতে নিষেধ নেই, কিন্তু যদি চাকুরির দরকারের কথা বলি, দেশের সাধারণ দরকারের কথা বলি, তাহলে দরকার নেই। অবশ্যই আমাদের কারিগরি শিক্ষার দিকে যেতে হবে। তাহলে জিডিপি গ্রোথ আরো বাড়বে, উচ্চশিক্ষিতরা জিডিপি গ্রোথ করায় না, ফল করায়।

একটা ছেলে/মেয়ে যে সাবজেক্টেই পড়ুক না কেন, তার ভেতরে একটা সাধারন দর্শন, নৈতিকতা, মানবতা তৈরি হওয়া উচিত, যেন সমাজ তাকে আদর্শের মাপকাঠি হিসেবে নিতে পারে। ভারতবর্ষের গনিতে একটা বড় আবিষ্কার শূন্য। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, আদর্শ এই শূন্য সমতুল্য। সেই শিক্ষার দিকে কেন যাব, যে শিক্ষা যোগ্যতা ক্ষয় করে, যৌবন ক্ষয় করে, নৈতিকতা ক্ষয় করে, অনিশ্চয়তা এনে দেয়??

কি দরকার সকাল বেলা মাস্টার্স পাসের সার্টিফিকেট নিয়ে দৌড়ানো, কতকগুলো অর্ধমৃত চণ্ডালের সামনে অর্ধ বাংলা, হাফ ইংলিশে ভাইভা দেওয়া। তারচেয়ে নিজের ব্যবসায়, নিজের জমিতে, নিজের এগ্রো ফার্মে, নিজের দোকানে, নিজের শোরুমে দৌড়ানোই কি ভাল নয়?

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com