বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ০৬:২৪ পূর্বাহ্ন

English Version
সকালে লোকাল, দুপুরে সিটিং, রাতে ফিটিং

সকালে লোকাল, দুপুরে সিটিং, রাতে ফিটিং



ডা. রাসেল মাহমুদ, নববার্তা : রাজধানী জুড়েই পরিবহন সেক্টরে চলছে লোকাল, সিটিং ও ফিটিং বাণিজ্য। বর্তমানে যাত্রীবাহী পরিবহন সেক্টরে এ সকল কার্যকলাপে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে সাধারন জনগন। এক শ্রেণির অসাধু পরিবহনের মালিকদের ব্যাক্তিগত ফায়দায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোয়াতে হচ্ছে পেশাজীবী মানুষদের।

রাজধানীর বেশিরভাগ পয়েন্টেই চলছে লোকাল, সিটিং ও ফিটিং বানিজ্য। এরই মধ্যে অভিনব কায়দায় করা হচ্ছে ছিনতাইসহ নানা অপকর্ম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রী সাধারণদের ভোগান্তির করুন দৃশ্য। প্রতিদিনই নগরীতে সকাল বেলা বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ যাত্রীবাহী পরিবহনের মাধ্যমে ছুটে চলে নিজ গন্তব্যস্থলে। নগরীতে যাত্রীর তুলনায় পরিবহণ সংকট থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয় জনসাধারণদের।

এরই মধ্যে অসাধু চক্রের চলে নিজ স্বার্থ লুটে নেয়ার চেষ্টা। সিটিং পরিবহণগুলো সকাল বেলা অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারনে লোকাল সার্ভিস দিলেও যাতায়াত ভাড়া গ্রহণ করে আসছে সিটিং ভাড়ার চাইতেও অনেক বেশী টাকা।

এক যাত্রীর সাথে আলাপকালে তিনি জানান, সকালে যাত্রীবাহী পরিবহনে উঠতে পাড়া মানে স্বর্ণের ইলিশ মাছ ধরার সমান। কোন যাত্রী যদি বাসে উঠে অতিরিক্ত ভাড়া দিতে অনিহা প্রকাশ করে তাহলে তাদেরকে নামিয়ে দেয়া হয় মাজপথে।

সকাল বেলার অবস্থা এমন থাকলেও দুপুরের দৃশ্য সম্পূর্ণ আলাদা। বেশির ভাগ সময়ই নগরীতে যাত্রীর সংখ্যা তুলনামুলকভাবে অনেক কম থাকে। আর ঠিক সেই সময় সকাল বেলার লোকাল যাত্রীবাহী পরিবহণ গুলো বনে যায় সিটিং পরিবহণ। কিন্তু ভাড়া টাকার বেলায় ঠিক একই অবস্থা।

নির্ধারিত ভাড়া টাকার বিপরীতে গুনতে হয় দিগুন অতিরিক্ত টাকা। এবিষয়ে একাধিক চালক ও পরিবহণ কন্ট্রাকটারের সাথে আলাপ কালে তাদের কাছ থেকে বেড় হয়ে আশে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জনসাধারণের কাছ থেকে উত্তোলিত অতিরিক্ত ভাড়া শুধু তারাই পায়না, এ টাকা যায় প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা আর কয়েকটি প্রভাবশালী মহলের পকেটে। এছাড়াও রাজধানীর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কতিপয় পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন ও ট্রাফিক ইনস্পেক্টর কে গোপন উৎকোচের মাধ্যমে রাখা হয় অবৈধ পরিবহণ পারকিং।

গুলিস্থানের কাপ্তানবাজার মুরগিপট্টি এলাকা, যাত্রাবাড়ী এলাকার চৌরাস্তা, মাওয়া রোড, ডেমরা রোড, চিটাগাং রোড ও শনির আখড়া রোডে এসকল দৃশ্য বেশী চোখে পরে। এসকল অবৈধ পারকিংয়ের জন্য পরতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিভিন্ন যানজটে। গুলিস্থানের কাপ্তানবাজার মুরগিপট্টি এলাকায় ফ্লাইওভারের কোল ঘেসে তৈরি করা হয়েছে দূরপাল্লার অবৈধ পারকিং।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে মাওয়াগামী ইলিশ পরিবহণসহ বিভিন্ন নামীয় পরিবহণ রাখা হয়েছে রাস্তা জুড়ে। এজন্য সেখানে প্রতিনিয়তই সৃষ্টি হচ্ছে বিশাল যানজট। এদিকে সন্ধার পর থেকেই গুলিস্থানের কাপ্তানবাজার মুরগিপট্টি এলাকার অবৈধ পরিবহন পারকিং থাকায় পরিবহণগুলোর ভিতরে বসেই চলে বিভিন্ন মাদক সেবন ও বানিজ্য।

যাত্রাবাড়ী থানার সামনেই প্রধান সড়কে রয়েছে একটি বিশাল অবৈধ পারকিংয়ের সুব্যাবস্থা। যা থানার সিসি ক্যামেরায় ধারন হচ্ছে প্রতিনিয়তই। পারকিংটির সু-ব্যবস্থার জন্য থানার দেয়াল ঘেসেই করা হয়েছে মাইকিং এর ব্যাবস্থা। কিছু চাঁদাবাজ মাইকের উচ্চশব্দের মাধ্যমে অবৈধ পারকিংয়ের পরিবহনের সিরিয়াল করে থাকে।

সকালে ও দুপুরের ভোগান্তির চিত্রের চাইতেও রাতের দৃশ্য ভিন্ন রকম। লোকাল, সিটিং এর পর রাতে করা হয় ফিটিং বাণিজ্য। এক শ্রেণির ডাকাত ও ছিনতাই চক্র সন্ধার পর বেড় হয় ভিন্ন রকম ছদ্মবেশ ধারন করে। সন্ধার পর যখন কর্ম ব্যাস্ত জনসাধারন যার যার কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশ্যে জাত্রাশুরু করে তখন যাত্রীবাহী পরিবহনের স্বল্পতা থাকায় চরম ভোগান্তিতে পরতে হয় যাত্রীদের।

আর ঠিক সেই মুহূর্তে কৌশলে ডাকাত ও ছিনতাই চক্রের সদস্যরা প্রাইভেটকার, সিএনজী, মাইক্রো ইত্যাদি জাতীয় পরিবহনে যাত্রীদের নির্ধারিত স্থানে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে গাড়িতে উঠায়। বেশ কিছুদূর পরিবহণগুলো গেলে নীরব কোন যায়গায় থামিয়ে বিভিন্ন অস্ত্র ঠেকিয়ে যাত্রীদের সর্বস্ব কেরে নেয় ওই সিন্ডিকেট। এ রকম ঘটনা অহরহ ঘটছে রাজধানীতে।

এদিকে বেশ কিছু পরিবহণ রাতে যাত্রীদের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে আদায় করে গলাকাটা ভাড়া। কেউ যদি অতিরিক্ত ভাড়া দিতে রাজি না হয় তাহলে তাদেরকে নামিয়ে দেয়া হয় মধ্যপথে। আর সেখান থেকেই অনেককে পরতে হয় বিভিন্ন অপরাধীদের রোষানলে।

নববার্তা/নজরুল

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com