এক কারাগারে মাত্র একজন নারী কয়েদি

মাহবুবা পারভীন, নববার্তা : একসময় ছিল অনেক কিন্তু বর্তমানে পুরো কারাগারে মাত্র একজন ভিআইপি নারী কয়েদি কারাবন্দি। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাবন্দি আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। রাজধানীর নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে একমাত্র আসামি তিনি।

কারাগারে বেগম খালেদা জিয়ার অধিকাংশ সময় চুপচাপেই কাটে। অধিকাংশ সময় কাটে ইবাদত-বন্দেগি আর পত্রিকা পড়ে। মাঝেমধ্যে বিটিভিও দেখেন। পুরো সময়টাজুড়েই তার সঙ্গে থাকেন গৃহকর্মী ফাতেমা। সেখানে দায়িত্বরত কারা মহিলা স্টাফদের সঙ্গেও আলাপচারিতায় সময় কাটে তার। কারা-সংশ্লিষ্ট সূত্রে এমন কথা জানা গেছে।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অপর পাঁচ আসামির ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করেন।

রায় ঘোষণার পরই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারকে ‘বিশেষ কারাগার’ ঘোষণা দিয়ে সেখানে রাখা হয়। বেগম জিয়ার সঙ্গে দেখা করে এসে গণমাধ্যমকে তার আইনজীবীরা জানান, বেগম জিয়াকে সম্পূর্ণ সলিটারি কনফারমেন্টে রাখা হয়েছে। পরিত্যক্ত যে কেন্দ্রীয় কারাগার ছিল তাতে এখন কেউ বাস করে না। যার ঘরবাড়িগুলো পড়ে যাচ্ছে, স্যাঁতসেঁতে হয়ে গেছে। সেই কারাগারে বেগম জিয়া একা একজন প্রিজনার।

খালেদা জিয়াকে প্রথমে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের সিনিয়র কারা তত্ত্বাবধায়কের কক্ষে রাখা হয়। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগমুহূর্তে কারাবিধি অনুসারে ভিআইপি বন্দী রাখার জন্য পুরনো কারাগারের ‘ডে-কেয়ার’ সেন্টারের দ্বিতীয় তলার সিঁড়ির ডান পাশের দুটি কক্ষ থাকার উপযোগী করে তোলা হয়। এর মধ্যে একটি কক্ষে লাগানো হয় নতুন টাইলস, সিলিং ফ্যান। বসানো হয় খাট, চেয়ার ও টেবিল। বিটিভির লাইনও সংযোগ দেয়া হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি ডিভিশন পাওয়ার পর সেখান থেকে বেগম জিয়াকে ডে-কেয়ার সেন্টারে নেয়া হয়।

কারাসূত্র জানায়, কারাগারের সব নিয়ম মেনেই চলছেন বেগম খালেদা জিয়া। কোনো বিষয় নিয়ে তাকে কারা কর্তৃপক্ষের অনুরোধও করতে হয় না। খাবারেও তার কোনো চাহিদা নেই। ঘুম থেকে ওঠে কারাবিধি অনুযায়ীই সকালের নাস্তা হিসেবে রুটি ও সবজি খান। এরপর তিনি পত্রিকা পড়েন। মাঝেমধ্যে চা দেয়া হয়। এরপর গোসল করেন, পরে জোহরের নামাজের পর নিয়মিত অজিফা পড়েন তিনি।

সেখানে বেশ সময় কাটে তার। দুপুরের খাবার খান একটু দেরিতে। বিকেলে কিছু সময় ডে-কেয়ার সেন্টারের বারান্দায় পায়চারি করেন। সেখানে থাকা একটি চেয়ারে বসেও সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় কাটে তার। মাগরিবের নামাজের পর মন চাইলে কিছু সময় বিটিভি দেখেন। এরপর রাতের খাবার খান। ডে-কেয়ার সেন্টারেই তার খাবার রান্না করা হয়। খাবারগুলো চিকিৎসকের পরীক্ষার পর বেগম জিয়াকে দেয়া হয়।

আদালতের অনুমতি নিয়ে খালেদা জিয়ার তত্ত্বাবধানের জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি থেকে গৃহকর্মী ফাতেমাকে কারাগারে থাকতে দেয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি বেগম জিয়ার সঙ্গে রয়েছেন। তাকে স্বেচ্ছায় কারাগারে যাওয়ার একটি সাদা কাগজে ‘বন্ড সই’ দিতে হয়েছে। তিনি দিনে কর্তব্যরত নারী কারারক্ষীর কাছে থাকেন। ডাকা হলে তিনি খালেদা জিয়াকে ওষুধ দেয়াসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন। রাতে ঘুমান খালেদা জিয়ার পাশের কক্ষে।

তার সেবায় কারাগারের ভেতরে সার্বক্ষণিক একজন নারী ফার্মাসিস্ট, প্রয়োজন হলে একজন চিকিৎসক থাকেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় খালেদা জিয়ার কক্ষ ঘিরে একজন নারী উপ-কারাধ্যক্ষের নেতৃত্বে সার্বক্ষণিক চারজন নারী কারারক্ষী থাকেন। কারাগারের বাইরে আছেন একজন উপ-কারাধ্যক্ষের নেতৃত্বে একদল কারারক্ষী। আছেন পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা। সব মিলিয়ে এক জেলে একাই নারী কয়েদি হিসেবে কড়া নিরাপত্তার বেষ্টনীর মধ্যে আছেন খালেদা জিয়া।

নববার্তা/নজরুল/মাহবুবা

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com