Web Analytics

,

ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত
ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত

ফুল ফুটুক আর না ফুটুক আজ বসন্ত

রুদ্র আমিন #  আজ পহেলা ফাল্গুন। এর সাথে সাথে আমাদের মাঝে শুকনো পাতায় ভর করে এসেছে ঋতুরাজ বসন্ত। গাছে গাছে সবুজ পাতা আর নানা রঙ্গের ফুল। শিমুল বন আর কৃষ্ণচূড়ারা সেজেছে সূর্যের সাথে তাল মিলিয়ে রক্তিম রঙে। কোকিলরা গান ধরেছে ভ্রমরের গুনগুনানির তালে তালে। চারদিকে শোনা যায় ঝড়া পাতার নিক্কন ধ্বনি। বসন্ত বারৈ খুঁজে পায় নিজের নামের স্বার্থকতা।

এ দিন বিশেষ করে তরুণীরা বাসন্তি রঙের শাড়ি আর মাথায় হলুদ ফুল দিয়ে নিজেরদের নুতন করে সাজিয়ে তোলে। অন্যদিকে ছেলেরা সাজে হলুদ রঙের পাঞ্জাবিতে। গ্রাম-বাংলায় বিশেষ আয়োজনে চলে পিঠা উৎসব। আর শহরে এটি পায় বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা। চীনেও বসন্ত বরণ হয়ে থাকে। এই বসন্ত বরণ উৎসব হলো তাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। তারা চন্দ্রপুঞ্জিকা অনুযায়ী এ উৎসব করে থাকে। তারা সিন চুন খোয়াইলা বলে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করে থাকে। যার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় আপনাকে বসন্তের শুভেচ্ছা। বসন্ত ঋতু লুকিয়ে আছে ফাল্গুন ও চৈত্র মাসের ভিতর। তবে অনুভবের জায়গা থেকে বলতে গেলে শুধু ফাল্গুন মাসের কথাই বলতে হবে। বাংলা বছর গণনায় ফাল্গুন ১১তম মাস হলেও কালের আবর্তনে এবং ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এটি শুধু একটি মাসের নামের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। এছাড়া তরুণ-তরুণীরা বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশের বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, শাহবাগ, চারুকলা চত্বর, পাবলিক লাইব্রেরি,  সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ধানমন্ডি লেক, বলধা গার্ডেন মাতিয়ে রাখবে সারাদিন। দিনভর চলবে তাদের বসন্তের উচ্ছ্বাস প্রকাশ। ফোন, ফেসবুক, টুইটারসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলবে বসন্তের শুভেচ্ছা বিনিময়। আজ নানা আয়োজনে বসন্তকে বরণ করবে বাঙালি।

পৃথিবী সূর্যের দিকে ঢলে পড়ে বলেই শীত তার ইতিটানতে বাধ্য হয়। এই সময়টাতে প্রাণিকুলের প্রজননের মোক্ষম সময়। পৃথিবীজুড়ে নুতন নুতন প্রাণের সঞ্চার হতে থাকে। তারা প্রকৃতির শ্রী বৃদ্ধির পাশাপাশি টিকিয়ে রাখে পরিবেশ ও প্রতিবেশ। আমাদের দেশে ফাল্গুন শব্দের পাশাপাশি বসন্ত শব্দের নানাবিধ ব্যবহার হচ্ছে। যেমন : যৌবনের তেজ বুঝাতে বলে থাকি ফাগুনের আগুন। আবার মজা করে টিপ্পুনি কেটে বলে থাকি আরে হ্যাঁ বুঝি বুঝি আর বলতে হবে না, তোর মনে যে ফাগুনের হাওয়া বইছে তা আর বলতে হবে না। অন্যদিকে কারো প্রেমিক ভাবকে ইঙ্গিত করতে বলা হয়ে  থাকে বসন্তের বাতাস লেগেছে । আমরা ফাল্গুন মাসকে আদর করে ফাগুনও ডেকে থাকি।  এতে শ্রুতি শ্রী বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কাব্যিকের ছন্দের দোলনটাও মসৃণ হয়।

জীবনে আর একটি বসন্তের আগমন। গাছে গাছে পলাশ আর শিমুলের মেলা। আজ পহেলা ফাল্গুন। সে ফাগুনের মাতাল হাওয়া দোলা দিয়েছে বাংলার প্রকৃতিতে। নতুন রূপে প্রকৃতিকে সাজাবে ঋতুরাজ বসন্ত। ফুলেল বসন্ত, মধুময় বসন্ত, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে মন-প্রাণ কেড়ে নেওয়া বসন্তের আজ প্রথম দিন। ঝরে পরার বেলা শেষ। শুকনো পাতার মর্মর যেন সে বার্তাই দিয়ে যায়। প্রকৃতি আজ খুলেছে দক্ষিণা দুয়ার। যেন কড়ির পাতা ঝরে পড়া সবুজ পাতার আনন্দে সে দুয়ারে বইছে ফাগুনের হাওয়া।

ঋতুরাজ বসন্তের আগমন বার্তা আজ প্রকৃতিতে। ন্যাড়াগাছে প্রাণের সঞ্চার। যেন শীতের খোলসে থাকা কুড়ি আজ অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে। পুরনোকে মলিন করে নতুন কিছু করার প্রত্যয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বার্তা নিয়েই ঋতুরাজের আগমন। আর বাঙালীর কাছে উৎসব মানেই জাঁকজমক। উৎসব মানেই রঙের ছড়াছড়ি। তাই ঋতু বরণে ঋতুরই উপহার।  প্রাচীনকাল থেকে ফাগুন মানেই ভালোবাসার আহবান। ফাগুন মানেই খোঁপায় নতুন ফুলের ছোঁয়া।

ফাগুন মানেই এক সময় ছিল বাসন্তী শাড়ি। তবে, উৎসবের অনুষঙ্গে এসেছে ভিন্নতা। সাজসজ্জায় যুক্ত হয়েছে নতুন মাত্রা। শীতের তীব্রতার পর বসন্ত এনেছে স্বস্তি। ঋতুরাজকে স্বাগত জানাতে প্রকৃতি সেজেছে বর্ণিল সাজে। ফাগুন কত যে ফুল ফোটায়? বাতাসে মিশিয়ে দেয় নিজের গন্ধ, ছন্দ ও আনন্দ। শীতের খোলসে ঢুকে থাকা কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, নাগলিঙ্গম এখন অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠেছে। মৃদুমন্দা বাতাসে ভেসে আসা ফুলের গন্ধে বসন্ত জানিয়ে দিচ্ছে, সত্যি সত্যি সে ঋতুর রাজা। লাল আর হলুদের বাসন্তী রঙে প্রকৃতির সাথে নিজেদের সাজিয়ে আজ বসন্তের উচ্ছলতা ও উন্মাদনায় ভাসবে বাঙালি। নতুন কুড়ি, নতুন জীবন। যেন মনে করিয়ে দেয়, ফাগুন এসেছে। এসেছে নতুন করে সাজবার, নতুন করে বাঁচবার, উৎসবে মাতার শুভবার্তা।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ




টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com