শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ০৬:৩৪ অপরাহ্ন

English Version
‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ : সফিউল্লাহ আনসারী

‘বিশ্ব ভালোবাসা দিবস’ : সফিউল্লাহ আনসারী

Valentine's day-Nobobarta
বিশ্ব ভালোবাসা দিবস



  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’ ১৪ ই ফেব্রুয়ারিতে সারাবিশ্বে ঘটা করে পালিত একটি দিবস। এ দিবসটি আমাদের দেশে ভালোবাসা দিবস ও ভ্যালেন্টাইন ডে দুই নামেই পরিচিত। ভালোবাসার নির্দিষ্ট সংজ্ঞা বা ক্ষেত্র না থাকলেও এই দিনে প্রেমিক যুগলদেরকেই বেশী তৎপর দেখা যায়। আবেগ আর ভালোবাসার মাখামাখিতে উৎসবের আমেজ লেগে যায়। ঐদিন ফুলের কদর এবং চাহিদাও বাড়ে ব্যাপক। সবাই চায় তার প্রিয়জনকে পবিত্রতার প্রতীক ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতে। তবে শুধু প্রেমিক যুগলদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে বিভিন্ন জন এ দিবসটিকে ভিন্নভাবে পালন করে থাকেন।
ভালোবাসা এমন একটি বিষয় যা নিদিষ্টি একটি দিনে সীমাবদ্ধ করাটা দুরুহ ব্যাপার। কারণ ভালোবাসা সব সময়, সর্বত্র সকল জীবে। হতে পারে মা-বাবার প্রতি ভালোবাসা, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা, দেশ-মাতৃকার প্রতি ভালোবাসা, একই বা বিপরিত লিঙ্গের ভালোবাসা, বন্ধুত্বের ভালোবাসা, কোন প্রাণি বা বস্তুর প্রতি ভালোবাসা কিংবা সৃষ্টিকর্তার প্রতি ভালোবাসা। যে যেভাবেই নিক না কেনো, ভালোবাসা ছাড়া সম্পর্ক মিথ্যে! দিবসটি পালনের আগে আমাদের জানা দরকার, কেনো এবং কিভাবে -“ভ্যালেন্টাইনস ডে‘ এলো- শোনা যায়-

(১) রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস-এর আমলের ধর্মযাজক সেন্ট ভ্যালেনটাইন ছিলেন শিশুপ্রেমিক, সামাজিক ও সদালাপী এবং খৃষ্টধর্ম প্রচারক। আর রোম সম্রাট ছিলেন বিভিন্ন দেব-দেবীর পূজায় বিশ্বাসী। ঐ সম্রাটের পক্ষ থেকে তাকে দেব-দেবীর পূজা করতে বলা হলে ভ্যালেন্টাইন তা অস্বীকার করায় তাকে কারারুদ্ধ করা হয়। সম্রাটের বারবার খৃষ্টধর্ম ত্যাগের আজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করলে ২৭০ খৃস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় আদেশ লঙ্ঘনের দায়ে ভ্যালেন্টাইনকে মৃত্যুদন্ড প্রদান করেন।

(২) সেন্ট ভ্যালেন্টাইন কারারুদ্ধ হওয়ার পর প্রেমাসক্ত যুবক-যুবতীদের অনেকেই প্রতিদিন তাকে কারাগারে দেখতে আসত এবং ফুল উপহার দিত। তারা বিভিন্ন উদ্দীপনামূলক কথা বলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে উদ্দীপ্ত রাখত। এক কারারক্ষীর এক অন্ধ মেয়েও ভ্যালেন্টাইনকে দেখতে যেত। অনেকক্ষণ ধরে তারা দু‘জন প্রাণ খুলে কথা বলত। এক সময় ভ্যালেন্টাইন তার প্রেমে পড়ে যায়। সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের আধ্যাÍিক চিকিৎসায় অন্ধ মেয়েটি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পায়। ভ্যালেন্টাইনের ভালবাসা ও তার প্রতি দেশের যুবক-যুবতীদের ভালবাসার কথা সম্রাটের কানে গেলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ২৬৯ খৃষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাকে মৃত্যুদন্ড দেন।

(৩) খৃষ্টীয় ইতিহাস মতে, ২৬৯ খৃষ্টাব্দের কথা। সাম্রাজ্যবাদী, রক্তপিপাষু রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসের দরকার এক বিশাল সৈন্যবাহিণীর। এক সময় তার সেনাবাহিনীতে সেনা সংকট দেখা দেয়। কিন্তু কেউ তার সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে রাজি নয়। সম্রাট লক্ষ্য করলেন যে, অবিবাহিত যুবকরা যুদ্ধের কঠিন মুহূর্তে অত্যধিক ধৈর্যশীল হয়। ফলে তিনি যুবকদের বিবাহ কিংবা যুগলবন্দী হওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী করেন। যাতে তারা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ না করে। তার এ ঘোষণায় দেশের যুবক-যুবতীরা ক্ষেপে যায়। যুবক সেন্ট ভ্যালেন্টাইন নামের এক ধর্মযাজকও সম্রাটের এ নিষেধাজ্ঞা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। প্রথমে তিনি সেন্ট মারিয়াসকে ভালবেসে বিয়ের মাধ্যমে রাজার আজ্ঞাকে প্রত্যাখ্যান করেন এবং তার গীর্জায় গোপনে বিয়ে পড়ানোর কাজও চালাতে থাকেন। একটি রুমে বর-বধূ বসিয়ে মোমবাতির স্বল্প আলোয় ভ্যালেন্টাইন ফিস ফিস করে বিয়ের মন্ত্র পড়াতেন। কিন্তু এ বিষয়টি এক সময়ে সম্রাট ক্লডিয়াসের কানে গেলে সেন্ট ভ্যালেন্টাইনকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। ২৭০ খৃষ্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি সৈন্যরা ভ্যালেন্টাইনকে হাত-পা বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে সম্রাটের সামনে হাজির করলে তিনি তাকে হত্যার আদেশ দেন।

(৪) আরেকটি খৃষ্টীয় ইতিহাস মতে, গোটা ইউরোপে যখন খৃষ্টান ধর্মের জয়জয়কার, তখনও ঘটা করে পালিত হতো রোমীয় একটি রীতি। মধ্য ফেব্রুয়ারিতে গ্রামের সকল যুবকরা সমস্ত মেয়েদের নাম চিরকুটে লিখে একটি পাত্রে বা বাক্সে জমা করত। অতঃপর ঐ বাক্স হতে প্রত্যেক যুবক একটি করে চিরকুট তুলত, যার হাতে যে মেয়ের নাম উঠত, সে পূর্ণবৎসর ঐ মেয়ের প্রেমে মগ্ন থাকত। আর তাকে চিঠি লিখত, এ বলে প্রতিমা মাতার নামে তোমার প্রতি এ পত্র প্রেরণ করছি।’ বৎসর শেষে এ স¤পর্ক নবায়ন বা পরিবর্তন করা হতো। এ রীতিটি কয়েকজন পাদ্রীর গোচরীভূত হলে তারা একে সমূলে উৎপাটন করা অসম্ভব ভেবে শুধু নাম পাল্টে দিয়ে একে খৃষ্টান ধর্মায়ণ করে দেয় এবং ঘোষণা করে এখন থেকে পত্রগুলো সেন্ট ভ্যালেনটাইন- এর নামে প্রেরণ করতে হবে। কারণ এটা খৃষ্টান নিদর্শন, যাতে এটা কালক্রমে খৃষ্টান ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে যায়।

(৫) অন্য আরেকটি মতে, প্রাচীন রোমে দেবতাদের রাণী জুনোর সম্মানে ১৪ ফেব্রুয়ারি ছুটি পালন করা হতো। রোমানরা বিশ্বাস করত যে, জুনোর ইশারা-ইঙ্গিত ছাড়া কোন বিয়ে সফল হয় না। ছুটির পরদিন ১৫ ফেব্র“য়ারি লুপারকালিয়া ভোজ উৎসবে হাজারও তরুণের মেলায় র‌্যাফেল ড্র‘র মাধ্যমে সঙ্গী বাছাই প্রক্রিয়া চলত। এ উৎসবে উপস্থিত তরুণীরা তাদের নামাংকিত কাগজের স্লিপ জনসম্মুখে রাখা একটি বড় পাত্রে ফেলত। সেখান থেকে যুবকের তোলা স্লিপের তরুণীকে কাছে ডেকে নিত। কখনও এ জুটি সারা বছরের জন্য স্থায়ী হত এবং ভালবাসার সিঁড়ি বেয়ে বিয়েতে গড়াতো। ঐ দিনের শোক গাঁথায় আজকের এই “ভ্যালেন্টাইন ডে”।

তবে ভ্যালেন্টাইনস ডে বা বিশ্ব ভালবাসা দিবস ১৯৯৩ সালের দিকে বাংলাদেশে আগমন ! যায় যায় দিন পত্রিকার সম্পাদক (সাবেক) শফিক রেহমান বাংলাদেশে প্রথম এ দিবসের সুচনা করেন বলে শোনা যায়। পাশ্চাত্যের ছোঁয়া নিয়ে দেশে ভ্যালেন্টাইনস ডে পালনের রেওয়াজ শুরু করায় শফিক রেহমানকে বাংলাদেশে ভালবাসা দিবসের জনক বলা হয়। বিশ্ব ভালোবসা দিবস আমাদের বাঙালী সংস্কৃতির অংশ না হলে গত কয়েক বছর যাবত এ দেশেও সরকার ঘোষিত হওয়া ছাড়াই উৎসব আমেজে পালিত হচ্ছে। দেশপ্রেম ঈমানের অংগ। দেশপ্রেমের জায়গা থেকে বলি- এসব ভিনদেশী কালচার পালন করতে যেয়ে আমরা যেনো নিজস্ব বাঙালী সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা না করি সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাশ্চাত্য কালচারের নামে বেহায়াপনাকে যেনো কোনমতেই আমরা প্রশ্রয় না দিই। সবাইকে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের নিরন্তর শুভেচ্ছা।

সফিউল্লাহ আনসারী
কবি-ছড়াকার
(উল্লেখিত ভ্যালেন্টাইনস ডে‘র সর্ম্পকে তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত)

লাইক দিন

Please Share This Post in Your Social Media




Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com