শুক্রবার, ২০ Jul ২০১৮, ০৮:৩৪ অপরাহ্ন

English Version
সংবাদ শিরোনাম :
হালুয়াঘাটে বিএনপির বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশের বাধা ইউপি চেয়ারম্যান ও নারী মেম্বারের নগ্ন ছবির লিফলেট, চলছে তোলপাড় মৎস্য সেক্টরে বর্তমান সরকারের অগ্রগতি বিষয়ে আলোচনা সভা নগরবাসীর কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করতে চাই : কামরান সেলিমের ২০ হাজার টাকা ‘কুল্লেখালাস’ বগুড়ায় ক্লিনিক নামের মরণ ফাঁদ, গেলেই অপারেশন আওয়ামী লীগ প্রতিহিংসার নয়, উন্নয়নের রাজনীতিতে বিশ্বাসী : কামরান নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বলা হচ্ছে অবান্তর কথা : কুশিঘাট ও কুয়ারপাড়ে কামরান জিপিএ-৫ শীর্ষে বগুড়ার সরকারি আজিজুল হক কলেজ বগুড়ায় ভুল চিকিৎসায় স্কুলছাত্রের মৃত্যু, ডলফিন ক্লিনিক সিলগালা, তদন্ত কমিটি গঠন


মাতৃগর্ভেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কন্যাশিশুর ভ্রূণ

মাতৃগর্ভেই বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কন্যাশিশুর ভ্রূণ



পুরোপুরি পরিণত হওয়ার আগেই ঠিক হয়ে যাচ্ছে শিশুর দাম! শিশুপিছু তা কখনও ১৫ হাজার রুপি, কখনও বা ৮০ হাজার। জন্মের আগে এভাবেই হাজার হাজার রুপিতে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে কন্যাশিশুর ভ্রূণ! ভারতের হায়দরাবাদে সম্প্রতি এনডিটিভির চালানো একটি স্টিং অপারেশনে সামনে আসে  চাঞ্চল্যকর এই তথ্য। খোঁজ মেলে একটি বড় শিশুপাচার চক্রের। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বড় ধরনের শিশুপাচার চক্রের হদিস মেলে আগেই। এনডিটিভির ওই স্টিং অপারেশনের কল্যাণে শিশুপাচার চক্রের ৬ সদস্যকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। খোঁজ চলছে চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও।

এনডিটিভির দাবি, হায়দরাবাদের এই শিশুপাচার চক্রের খবর আগে থেকেই তাদের কাছে ছিল। স্টিং অপারেশনের জন্য তারা হায়দরাবাদে একটি অস্থায়ী কার্যালয়ও খুলে ফেলে। শিশুপাচার চক্রের এক সদস্যকে শিশু কেনার কথা জানিয়ে খবর দেওয়া হলে রবি নামে একজন টিভি চ্যানেলের অস্থায়ী কার্যালয়ে নিয়ে আসেন এক অন্তঃসত্ত্বাকে। ওই নারীকে তার ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ হিসেবে পরিচয় দিয়ে রবি জানায়, তার গর্ভে কন্যাশিশুর ভ্রূণ রয়েছে। আল্ট্রাসাউন্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা করে চিকিৎসক সে কথাই জানিয়েছেন।

এরপর রফা হতে সময় লাগেনি। শিশুটির জন্মের আগেই তার ‘দাম’ ঠিক হয়ে যায়! শিশুটির জন্য ৮০ হাজার রুপি দাবি করে রবি। সে জানায়, এই ৮০ হাজার রুপির মধ্যে ৩০ হাজার রুপি নিজের জন্য রেখে বাকি ৫০ হাজার রুপি হাসপাতালের নার্সকে দেবে। এক সপ্তাহের মধ্যেই সদ্যজাত শিশুকে ‘ক্রেতা’র হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেয় রবি। সঙ্গে জানায়, জন্মের পর শিশুটিকে ‘ক্রেতা’র  যদি পছন্দ না হয় সেক্ষেত্রে তার জন্য বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রবি জানায়, এক্ষেত্রে সে তার বোনের তিনটি শিশুকন্যার মধ্যে একজনকে বিক্রি করে দেবে।

খবর নিয়ে জানা যায়, হায়দরাবাদ থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে কালওয়াকুর্তি হাসপাতালের সঙ্গে একটা ‘বোঝাপড়া’ আছে রবির। সে অনুযায়ী ভ্রুণের লিঙ্গ নির্ধারণ থেকে শিশুর জন্ম, সবটাই করানো হয় ওই হাসপাতালে। তাই যারা ‘ক্রেতা’ সেজে রবির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, বিশ্বাস অর্জন করতে সেই সাংবাদিককেও কালওয়াকুর্তি হাসপাতালে নিয়ে যায় রবি। ৫০ হাজার রুপি যে নার্সের জন্য চেয়েছিল রবি, তার সঙ্গে আলাপও় করিয়ে দেয়। শিশু জন্মানোর পর সেই নার্সই শিশুটির ‘ডেথ’ সার্টিফিকেট দেন। হাসপাতালের খাতায় শিশুটির নামের পাশে ‘মৃত’ লিখে দেন নার্স। তার পর শিশুটির মা আর তার পরিবারের কাছে শিশুকে ‘মৃত’ প্রমাণ করতে শিশুটিকে তড়িঘড়ি কবর দেওয়ার জন্য ব্যস্ততা দেখাতে শুরু করে রবি। গর্ত খুঁড়ে ফেলে। তার পর সকলের নজরের আড়ালে সেই গর্তের ওপর পাথর চাপা দিয়ে দেয় রবি। তারপর আরেক দফা নাটক! ‘শিশুটি মারা গেছে’ বলে চোখের জল ফেলে রবি। এরপর শিশুটিকে নিয়ে ‘ক্রেতা’র হাতে তুলে দেয় সে। গরিব মানুষদের কাছ থেকে কম অর্থে কন্যাশিশুর ভ্রূণ কিনে এভাবেই তাদের অনেক বেশি অর্থে ‘ক্রেতা’দের কাছে বেচে দেয় রবি। সে কথা সে ‘ক্রেতা’ সেজে আসা টিভি চ্যানেলের সাংবাদিককেও জানিয়েছে। রবি এটাও বলেছে, ওই কাজ চালাতে অনেক তাবড় তাবড় নেতার সঙ্গেও সে যোগাযোগ রাখে।

শুক্রবার কন্যাশিশুর ভ্রূণ বিক্রির জন্য হায়দরাবাদের একটি মন্দিরে টিভি চ্যানেলের ‘ক্রেতা’ সাংবাদিককে ডেকে পাঠায় রবি। ঠিক সময়ে সেখানে পৌঁছে যান ‘ক্রেতা’ সাংবাদিক। সঙ্গে ছিল পুলিশ। তবে পুলিশ সাদা পোশাকে লুকিয়ে ছিল আশেপাশে। তার আগেই অবশ্য  রবি এসে দাম নিয়ে কোনো জায়গায় তার সঙ্গে দেখা করতে হবে, তা জানিয়ে যায় ‘ক্রেতা’ সাংবাদিককে। কিছুক্ষণ পরেই এক নারী সদ্যজাত শিশুকে নিয়ে হাজির হয় সেখানে। আর তখনই তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে রবিসহ পাঁচজন শিশু পাচারকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পশ্চিমবঙ্গেও বড়সড় শিশুপাচার চক্র অনেক দিন ধরেই সক্রিয়। কলকাতার খুব কাছে বাদুড়িয়ায় গত বছরের শেষাশেষি এমন একটি বড়সড় শিশু পাচারচক্রের হদিশ পান তদন্তকারীরা। বিস্কুটের বাক্সের মধ্যে থেকে তিন নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। এটাও জানা যায়, বাদুড়িয়া ছাড়াও উত্তর ২৪ পরগণার একাধিক নার্সিংহোমে রমরমিয়ে চলছে এই শিশুপাচার চক্রের কাজকর্ম। রাজ্যের উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের আরও কয়েকটি জেলা ও শহরেও এই চক্রগুলি সক্রিয়।

–আনন্দবাজার পত্রিকা

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

Please Share This Post in Your Social Media




ফুটবল স্কোর



© 2018 Nobobarta । Privacy PolicyAbout usContact DMCA.com Protection Status
Design & Developed BY Nobobarta.com