,

একজন মেয়র আনিসুল হক!

২০১১ সালের ১ ডিসেম্বর গঠিত হয় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ওই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করেন আনিসুল হক। পরে ৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে শপথ নেন আনিসুল হক। বিপুল জনসমর্থন নিয়ে তিনি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এরপর স্বপ্নকারিগর হয়েই নেমে পড়েন সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার কর্মযজ্ঞে। সে পথচলা থেমে গেল ৭৮০ দিনে।

মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি ডিএনসিসি মার্কেট চালু, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ড সরিয়ে সড়ক উন্মুক্ত করা, শ্যামলী থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত সড়ক পার্কিংমুক্ত ঘোষণা, ফুটপাত দখলমুক্ত করাসহ বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এছাড়া নগরীর সৌন্দর্য্য বর্ধনেও মেয়র আনিসুল নিয়েছিলেন বেশকিছু উদ্যোগ। সাহসী এক পদক্ষেপের মাধ্যমে সাতরাস্তা থেকে ফার্মগেট সংলগ্ন রেলগেট পর্যন্ত সড়কের অবৈধ ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদে করেন মেয়র আনিসুল হক। পরবর্তীকালে সড়কটির আধুনিকায়ন করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেন তিনি। শুধুই সড়ক নয় নগরবাসীকে মুক্ত আকাশ দেখার সুযোগ করে দিতে ডিএনসিসি এলাকা থেকে ২২ হাজার বিলবোর্ড অপসারণ করা হয় তারই উদ্যোগে।

আর নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ডিএনসিসির বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার উদ্যোগ সহ শহরের স্পর্শকাতর এলাকার নিরাপত্তা বিবেচনায় নিবন্ধিত রিকশা ও বাস সার্ভিস চালু করেন। ডিএনসিসি ও নগরবাসীর মধ্যে দূরত্ব কমিয়ে আনতে তিনি চালু করেন স্মার্ট ফোন অ্যাপ নগর। যানজটের আখড়া হয়ে থাকা শ্যামলী থেকে আমিনবাজার পর্যন্ত রাস্তাকে পার্কিংমুক্ত ঘোষণা করে যানজটমুক্ত রাস্তায় রূপ দেন মেয়র আনিসুল। শুধু সড়ক নয় নগরপিতার নজর পড়ে নগরীর ফুট ওভারব্রিজে। দৃষ্টিনন্দন সবুজ গাছগাছালিতে সাজিয়ে তোলেন অধিকাংশ ফুট ওভারব্রিজ। তাঁর উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে নির্মিত হয় আধুনিক ঝকঝকে শৌচাগার।

এদিকে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের দ্বিতীয় বছরের মধ্যেই নগরের প্রায় সবখানে ডাস্টবিন ও সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন নির্মাণকাজ শেষ করেন এই মেয়র। জেট অ্যান্ড সাকার মেশিনের মত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরের পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থায় উন্নতি ঘটানো হয়। গত বছরের শুরুতে বিভিন্ন পত্রিকার সম্পাদকদের সঙ্গে এক বৈঠকে এমনই কিছু উদ্যোগের কথা জানিয়েছিলেন মেয়র আনিসুল হক। যার মধ্যে রয়েছে ঢাকা নগরীকে সুন্দর করতে যানজট নিরসনে তেজগাঁওসহ ১০টি এলাকার রাস্তা দখলমুক্ত করা, ২২টি ইউলুপ নির্মাণ, ৩ হাজার বাস নামানো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ৭২টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন, সবুজায়নে ইকো বাস সার্ভিস চালু, ২০ হাজার বিলবোর্ড উচ্ছেদ ও পরিকল্পিত বিলবোর্ড স্থাপন, জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্যোগ গ্রহণ, সড়কে এলইডি বাতি সংযোজন, প্রধান সড়কগুলোকে রিকশামুক্ত করা, গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সিসি ক্যামেরা স্থাপন, পাবলিক টয়লেট স্থাপন।

নাতির জন্ম উপলক্ষে গত ২৯ জুলাই সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান মেয়র আনিসুল হক। সেখানে অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ১৩ আগস্ট তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাঁর শরীরে মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ ‘সেরিব্রাল ভাস্কুলাইটিস’ শনাক্ত করেন চিকিৎসকেরা। এরপর তাঁকে দীর্ঘদিন আইসিইউতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। একপর্যায়ে মেয়রের শারীরিক পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি ঘটায় গত ৩১ অক্টোবর হওয়ায় তাঁর কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেওয়া হয়। কিন্তু মঙ্গলবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাঁকে আবার আইসিইউতে নেওয়া হয়। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ২৩ মিনিটে লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর আনিসুল হক আশি ও নব্বইয়ের দশকে টিভি উপস্থাপক হিসেবে পরিচিতি পান। মোহাম্মদী গ্রুপের চেয়ারম্যান আনিসুল হক বিজিএমইএ ও এফবিসিসিআইর সভাপতি ছিলেন। ১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কবিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন আনিসুল হক।

ফেসবুক থেকে মতামত দিন

নববার্তা.কম এর সংবাদ পড়তে লাইক দিন নববার্তা এর ফেসবুক ফান পেজে

আরও অন্যান্য সংবাদ


Udoy Samaj

টুইটর




Social Media Auto Publish Powered By : XYZScripts.com